র্যামের দাম সামলাতে পুরনো সকেটে আসছে ইনটেলের নতুন প্রসেসর
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭
•
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির প্রভাবে র্যামের আকাশচুম্বী দামের কারণে আগামী বছর বাজারে আসতে যাওয়া নতুন প্রসেসরে পুরনো সকেট ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ইনটেল।
চিপ তৈরির বাজারে পাঁচ বছরের পুরনো ‘এলজিএ ১৭০০’ নামের এ প্রযুক্তি পুনরায় ব্যবহার করে গ্রাহকদের সাশ্রয়ীদামে কম্পিউটার তৈরির সুযোগ করে দেওয়াই চিপ নির্মাতা কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মাদারবোর্ড নির্মাতা কোম্পানি ‘গিগাবাইট’-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি সাইট ‘পিসি গেইমার’ প্রতিবেদনে লিখেছে, ইনটেল তাদের ‘এলজিএ ১৭০০’ সকেটের ওপর ভিত্তি করে নতুন সিপিইউ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০২১ সাল থেকে ব্যবহৃত এলজিএ ১৭০০ সকেটটি প্রসেসর প্রযুক্তির দুনিয়ায় বেশ পুরনো হিসেবেই বিবেচিত। তবে আগামী বছর মুক্তি পেতে যাওয়া একদম নতুন প্রসেসরে কেন এ পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে?
এর পেছনের মূল কারণ মেমোরি চিপের বাজারে র্যামের আকাশচুম্বী দাম।
এলজিএ ১৭০০ সকেটের বড় সুবিধা হল এটা ‘ডিডিআর৪’ ও ‘ডিডিআর৫’ উভয় ধরনের র্যাম বা মেমোরি সমর্থন করে।
ইনটেলের আগামীর ‘র্যাপ্টর লেক’ ও ‘অ্যাল্ডার লেক’ প্রসেসরের রিফ্রেশ সংস্করণগুলো ‘ডিডিআর৪’ র্যাম ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের কারণে বিশ্ববাজারে যে ‘র্যাম সংকট’ তৈরি হয়েছে ও দাম বেড়েছে তা সামাল দিতেই ইনটেলের এই পদক্ষপে।
ইনটেল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে সম্প্রতি কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রবার্ট হ্যালক বলেছেন, তাদের ‘র্যাপ্টর লেক’ চিপগুলো আরও ‘কয়েক বছর ধরে বাজারে থাকবে’। ‘ডিডিআর৪’ মেমোরি সমর্থনই এর অন্যতম প্রধান কারণ।
“এলজিএ ১৭০০ এখনও বেশ ভালো সকেট। অনেকেই এখনও ডিডিআর৪ ব্যবহারে আগ্রহী। ফলে আমরা এটা বাজারে সরবরাহ ধরে রাখব।”
ইনটেলের জন্য এ সিদ্ধান্ত খুব একটা বিস্ময়কর নয়। কারণ তাদের বর্তমান সিরিজের অনেক প্রসেসরই আগে থেকে ‘ডিডিআর৪’ মেমোরি ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি।
গতি ও কর্মসক্ষমতার দিক থেকে ‘ডিডিআর৪’ নতুন ‘ডিডিআর৫’-এর মতো দ্রুতগতির না হলেও বেশিরভাগ আধুনিক পিসি গেইম চালানোর জন্য এ পুরনো মেমোরি এখনও যথেষ্ট কার্যকর।
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডিডিআর৪-এর জায়গায় ডিডিআর৫ ব্যবহার করলে গেইমের ফ্রেম রেটে কেবল ১ থেকে ১০ শতাংশ উন্নতি ঘটে, যা খেলোয়াড়ের ব্যবহৃত মনিটর রেজুলিউশন ও গ্রাফিক্স কার্ডের ওপর নির্ভর করে।